এই বর্ষায় সাবধান থাকুন: যেসব রোগ এখন বাড়ছে এবং যেভাবে নিরাপদ থাকবেন
বর্ষা মানেই স্বস্তির বৃষ্টি — কিন্তু এই মৌসুমেই বাড়ে বেশ কিছু সংক্রামক রোগের প্রকোপ। টানা বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা আর স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় মশা, ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের বংশবিস্তার সহজ হয়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা এ বছর জুলাই-আগস্ট মাসকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময় হিসেবে দেখছেন, এবং বরিশাল বিভাগেও প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। তাই পরিবারের সবাইকে নিয়ে এখনই সচেতন হওয়ার সময়।
চলুন জেনে নিই এই মৌসুমে কোন কোন রোগ বেশি দেখা যায়, লক্ষণ কী, এবং কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি।
১. ডেঙ্গু জ্বর
বর্ষাকালে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশা ডিম পাড়ে, আর এ থেকেই ছড়ায় ডেঙ্গু। জুলাই-আগস্টে এই রোগ সাধারণত সবচেয়ে বেশি ছড়ায়, এবং এ বছরও দেশজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।
লক্ষণ: হঠাৎ তীব্র জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, গায়ে-হাত-পায়ে ব্যথা, শরীরে র্যাশ।
বিপদ চিহ্ন (সাথে সাথে হাসপাতালে যান): পেটে তীব্র ব্যথা, বারবার বমি, নাক-মুখ দিয়ে রক্তপাত, শ্বাসকষ্ট, শরীর ঠান্ডা হয়ে যাওয়া বা অতিরিক্ত ক্লান্তি।
প্রতিরোধ: বাসার আশপাশে ও ফুলের টব, ফ্রিজের ট্রে, ছাদে কোথাও পানি জমতে না দেওয়া; সপ্তাহে অন্তত একদিন এসব পরিষ্কার করা; দিনে-রাতে মশারি ব্যবহার এবং মশা নিরোধক ক্রিম/স্প্রে ব্যবহার করা।
২. পানিবাহিত রোগ: ডায়রিয়া, আমাশয়, টাইফয়েড
বন্যা বা জলাবদ্ধতার পানি বিশুদ্ধ পানির উৎসের সাথে মিশে গেলে পানি দূষিত হয়ে পড়ে। দূষিত পানি বা খাবার থেকে ছড়ায় ডায়রিয়া, আমাশয় ও টাইফয়েড — বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জন্য এটি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
লক্ষণ: ঘন ঘন পাতলা পায়খানা, বমি, পেটে ব্যথা, জ্বর, শরীর দুর্বল লাগা।
বিপদ চিহ্ন: প্রস্রাব কমে যাওয়া, চোখ বসে যাওয়া, মুখ শুকিয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত ঝিমুনি — এগুলো পানিশূন্যতার লক্ষণ, দেরি না করে চিকিৎসা নিন।
প্রতিরোধ: ফুটানো বা বিশুদ্ধ পানি পান করা, খাবার আগে ও পরে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, খোলা বা বাসি খাবার এড়িয়ে চলা, বাসায় খাবার স্যালাইন মজুত রাখা।
৩. চর্মরোগ ও ছত্রাক সংক্রমণ
দীর্ঘক্ষণ ভেজা কাপড় বা স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে থাকলে ত্বকে ছত্রাক সংক্রমণ, চুলকানি ও অ্যালার্জি দেখা দেয়।
লক্ষণ: ত্বকে লালচে ভাব, চুলকানি, পায়ের আঙুলের ফাঁকে ঘা বা জ্বালাপোড়া।
প্রতিরোধ: ভেজা কাপড় দ্রুত পাল্টানো, পা শুকনো রাখা, নিয়মিত গোসল করা, ঢিলেঢালা ও সুতির কাপড় পরা।
৪. চোখ ওঠা (কনজাংটিভাইটিস)
বর্ষায় ভাইরাসজনিত চোখ ওঠার প্রকোপও বাড়ে এবং এটি সহজে একজন থেকে অন্যজনে ছড়ায়।
লক্ষণ: চোখ লাল হওয়া, চুলকানি, পানি পড়া, চোখে খচখচে ভাব।
প্রতিরোধ: নিজের তোয়ালে-রুমাল আলাদা রাখা, বারবার চোখে হাত না দেওয়া, হাত পরিষ্কার রাখা।
৫. ভাইরাল জ্বর, সর্দি-কাশি
আবহাওয়ার হঠাৎ পরিবর্তনে ভাইরাসজনিত জ্বর-সর্দি-কাশি সব বয়সেই দেখা যায়।
লক্ষণ: হালকা থেকে মাঝারি জ্বর, গলাব্যথা, কাশি, শরীরে ব্যথা।
প্রতিরোধ: পর্যাপ্ত বিশ্রাম, পুষ্টিকর খাবার, ভিড় এড়িয়ে চলা, হাঁচি-কাশির সময় মুখ ঢাকা।
কখন দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যাবেন
- জ্বর ৩ দিনের বেশি স্থায়ী হলে
- শিশু বা বয়স্কদের মধ্যে পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলে
- শ্বাসকষ্ট, রক্তপাত বা তীব্র পেটে ব্যথা হলে
- ঘরোয়া যত্নে ২৪-৪৮ ঘণ্টায়ও উন্নতি না হলে
এই ধরনের যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে অপেক্ষা না করে দ্রুত একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
সবার জন্য কিছু সহজ পরামর্শ
- বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখুন, পানি জমতে দেবেন না
- বিশুদ্ধ পানি পান করুন, খাবার ঢেকে রাখুন
- হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন
- জ্বর বা কোনো উপসর্গ দেখা দিলেই স্ব-চিকিৎসা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
- শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বাড়তি নজর রাখুন
সাউথ এভারকেয়ার মেডিকেল সার্ভিসেস, বরিশাল আপনার পাশে
এই বর্ষায় জ্বর, ডায়রিয়া বা অন্য কোনো স্বাস্থ্য সমস্যায় আমাদের মেডিসিন, শিশুরোগ ও চর্মরোগ বিভাগে অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ নিতে পারেন। অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে আমাদের ওয়েবসাইট বা হেল্পলাইনে যোগাযোগ করুন।